এটি সেচ্ছাসেবামুলক সংগঠন।আমদের কাজ সমাজের উন্নয়ন।।.এবং লেখা কিছু বৈজ্ঞানিক সমাজ গবেষণা।

Latest News:

Monday, September 18, 2017

ফেসবুক আইডি হ্যাক হলে কিভাবে উদ্ধার করবেন?

ফেসবুক অত্যন্ত জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হলেও অনেকেই জানেনা কী করে একাউন্টের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হয়। দুর্বল সিকিউরিটি সেটিংসের কারণে তাই আইডি হ্যাকিং এর কবলে পড়ছেন অনেকেই। আইডি হ্যাক করে অনেক সময় সেই প্রোফাইল থেকে অশালীন পোস্ট করা হয় অথবা ফ্রেন্ডলিস্টে থাকা বন্ধুদের কাছে প্রতারণামূলক মেসেজ পাঠানো হয়। এসব ঘটনা সেই ব্যবহারকারীর জন্য অত্যন্ত বিব্রতকর হতে পারে।
হ্যাকড অ্যাকাউন্ট ফেরত পাবার বিভিন্ন প্রাথমিক উপায় রয়েছে। তবে সে সকল পদক্ষেপ নেয়ার পরও যদি অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধার করা না যায় তাহলে আপনার পরবর্তী পদক্ষেপ হবে এলাকার পুলিশ ষ্টেশনে গিয়ে জিডি করা। জিডির কপিটি সাথে রাখতে হবে। জিডি করার পর দ্বিতীয় কাজ হবে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের অধীনে সাইবার নিরাপত্তা বিভাগে যোগাযোগ করা(হটলাইনের নাম্বারঃ ০১৭৬৬৬৭৮৮৮৮)।
এক্ষেত্রে আপনাকে দুটি অপশন দেয়া হবে।
অ্যাকাউন্টটি পুনরুদ্ধার করা।
অ্যাকাউন্টটি চিরতরে বন্ধ করে দেয়া।
হটলাইন নাম্বার থেকে আপনাকে একটি ই-মেইল অ্যাড্রেস (info@cybernirapotta.net) দেয়া হবে।  এই ই-মেইল অ্যাড্রেস এ কিছু অ্যাটাচমেন্ট পাঠাতে হবে-
জিডির স্ক্যান করা কপি।
ভোটার আইডি কার্ডের রঙ্গিন স্ক্যান কপি।
হ্যাক হওয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্টের লিংক।
আগে কখনও ব্যবহার করা হয়নি, আপনার এমন নতুন একটি ই-মেইল আইডি।
সব অ্যাটাচমেন্টসহ ই-মেইল পাঠিয়ে দেওয়ার পর হটলাইনে কল করে ই-মেইল পেয়েছে কি না সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারেন। এরপর তিন দিনের ভেতর আপনার হ্যাক হয়ে যাওয়া অ্যাকাউন্ট উদ্ধার করে আপনাকে ফোন দিয়ে জানানো হবে। এভাবে খুব সহজেই আপনি সাইবার হামলা প্রতিহত করতে পারবেন।

আপনার মোবাইল ফোন হারিয়ে গেলে কিভাবে উদ্ধার করবেন ?

বর্তমান সময়ে মোবাইল ফোন আমাদের নিত্যসঙ্গী। অর্থনৈতিক সচ্ছলতা ও রুচি অনুযায়ী আমরা বিভিন্ন ব্রান্ড ও মডেলের মোবাইল ফোন ব্যবহার করে থাকি। কিন্তু চলার পথে প্রায়ই নানা কারণে আমাদের এই প্রয়োজনীয় ফোনটি হারিয়ে যেতে পারে। চুরি বা ছিনতাইয়ের মতো অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটতে পারে। এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিকে অনেক সময় ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়। যেমন চুরি বা ছিনতাই হওয়া মোবাইল ফোনটি কখনো কখনো অপরাধমূলক কাজে ব্যবহৃত হতে পারে। সেক্ষেত্রে মোবাইল এবং সিমের রেজিস্ট্রি মতে এর প্রকৃত মালিক গ্রেফতার বা হয়রানির স্বীকার হতে পারেন। তাই মোবাইল ফোন হারালে বা চুরি হলে, বিষয়টি যত তাড়াতাড়ি সম্ভব পুলিশকে জানাতে হবে। তবে যে কারণেই ফোন হারাক না কেন, পুলিশের সহায়তায় একজন নাগরিক তার প্রিয় মোবাইল ফোনটি ফিরে পেতে পারেন। জেনে নিই হারানো ফোন উদ্ধারের প্রক্রিয়া।
হারানো বা চুরি হওয়া মোবাইল ফোন উদ্ধার করার প্রক্রিয়া:
আপনার মূল্যবান মোবাইল ফোনটি হারিয়ে গেলে বা ছিনতাই হলে অবিলম্বে নিকটস্থ থানায় গিয়ে একটা সাধারণ ডায়রি করতে হবে। সেই সাথে আপনার মোবাইল ফোনটির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যেমন : ক্রয়ের রশিদ, সিম রেজিস্ট্রেশন, ফোনের আইএমই নম্বর, ফোনের সক্রিয় সিমের নাম্বার প্রভৃতি কাগজ অথবা এর ফটোকপি জিডির সাথে থানায় জমা দিয়ে হবে। এরপর ডিউটি রত অফিসার আবেদনকারীকে একটি জিডি নাম্বার প্রদান করবেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোবাইলটির আইএমইআই নম্বর দিয়ে ট্র্যাক করে সেটটি উদ্ধার করার চেষ্টা করবে। পরবর্তীতে যদি হারানো মোবাইল ফোনটি  খুঁজে পাওয়া যায় তাহলে ওসির মাধ্যমে আবেদনকারী তা ফেরত পাবেন। খুঁজে না পেলেও ব্যবহারকারীকে থানা থেকে জানিয়ে দেয়া হবে।
হারানো মোবাইল উদ্ধারে পুলিশের সেবার সুবিধা :
হারানো মোবাইল ফোন ফিরে পাওয়া যায়
পুলিশ নাগরিক সেবা নিশ্চিত করে
আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা পাওয়া যায়
গ্রেফতার বা হয়রানি থেকে রক্ষা পাওয়া যায়
পুলিশ এবং জনগণের মধ্যে মৈত্রীর বন্ধন সৃষ্টি হয়
বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা পায়
হারানো মোবাইল উদ্ধারে পুলিশের সেবার বিবরণ :
সেবা প্রাপ্তির যোগ্যতা            : বাংলাদেশের যে কোন নাগরিক
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র           :  আবেদন পত্র (জিডি)
প্রয়োজনীয় খরচ                  :  বিনামূল্যে এই সেবা প্রদান করা হয়
প্রয়োজনীয় সময়                  :  ২ থেকে ৭ দিন
কাজ শুরু হবে                     :   নিকটস্থ থানা
আবেদনের সময়                  :   সারা বছর যে কোন সময়
দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা               :   ওসি, এসআই/এএসআই
সেবা না পেলে কোথায় যাবেন  : সার্কেল এ এস পি
বিস্তারিত তথ্যের জন্য            : ১০০ (পুলিশ কন্ট্রোল রুম), ৯৯৯ (ন্যাশনাল হেল্প ডেস্ক)
প্রয়োজনীয় ওয়েবসাইট           : http://www.police.gov.bd

মোবাইল ফোনে কেউ আপনাকে উত্যাক্ত করলে কি করবেন ?

এই সময়ে মোবাইল ফোন ছাড়া নিজেকে কল্পনা করাই কষ্টকর। এর যেমন রয়েছে বহুবিদ সুবিধা, তেমনি রয়েছে বেশ কিছু সমস্যা। কিছু অসাধু ব্যক্তি রয়েছে যারা মোবাইল ফোন দিয়ে বিভিন্ন মানুষকে উত্যক্ত করে। মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীদের প্রায় প্রত্যেকেরই প্রায় এই অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে যেতে হয়েছে। বিশেষ করে নারীরা প্রায়শই এমন বিব্রতকর অভিজ্ঞতার মুখে পড়েন। কাউকে ফোন করে উত্যক্ত করা অপরাধের আওতায় পড়ে। এই ধরনের অপরাধীকে আইনের আওতায় এনে শাস্তি প্রদান করা যায়। কোন নাগরিক চাইলে পুলিশের কাছে উত্যক্তকারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে পারেন। আবেদনকারীর অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
মোবাইল ফোনে কেউ আপনাকে উত্যক্ত করলে করণীয় কি :
আপনাকে কেউ উত্যক্ত করলে তার বিরুদ্ধে লিখিতভাবে আবেদন করতে হবে। মোবাইল নম্বর ও অন্যান্য তথ্য দিয়ে আবেদনটি নিকটস্থ থানায় কর্তব্যরত অফিসারের কাছে আবেদন জমা দিতে হবে। কর্তব্যরত অফিসার সেই আবেদনটি গ্রহণ করে একটি জেনারেল ডায়েরি বা জিডি করবেন এবং আবেদনকারীকে একটি জিডি নম্বর প্রদান করবেন। এরপর পুলিশ তাদের নিজস্ব পদ্ধতি ব্যবহার করে অপরাধীকে শনাক্ত করবে এবং আইনের আওতায় এনে শাস্তি প্রদান করবে।
উত্যক্তকারীর বিরুদ্ধে পুলিশের সেবার সুবিধা:
উত্যক্তকারির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া যায়
অন্যকে উত্যক্ত করার মতো অপরাধ সমাজ থেকে দূর হয়
পুলিশের কাছে নাগরিক সেবা পাওয়া যায়
নাগরিকের নিরাপত্তা বৃদ্ধি পায়
পুলিশ অপরাধীর বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করেন
উত্যক্তকারীর বিরুদ্ধে পুলিশের সেবার বিবরণ :
সেবা প্রাপ্তির যোগ্যতা             : বাংলাদেশের যে কোন নাগরিক
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র               :  আবেদন পত্র
প্রয়োজনীয় খরচ                    :  বিনামূল্যে এই সেবা প্রদান করা হয়
প্রয়োজনীয় সময়                     :  ১ ঘণ্টা থেকে সর্বোচ্চ ২/৩ দিন
কাজ শুরু হবে                        :   নিকটস্থ থানা
আবেদনের সময়                     :   সারা বছর যে কোন সময়
দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা                  :   ওসি, এসআই/এএসআই
সেবা না পেলে কোথায় যাবেন : সার্কেল এ এস পি
বিস্তারিত তথ্যের জন্য              : পুলিশ হেল্প লাইন ১০০ অথবা ন্যাশনাল হেল্প ডেস্ক ৯৯৯ এ ফোন করুন।
প্রয়োজনীয় ওয়েবসাইট            : http://www.police.gov.bd

Monday, August 28, 2017

আমরা কি সামাজিক ??


এত অবক্ষয় আমরা কিভাবে মেনে নিয়েছি কেউ কি বলতে পারবে?? ক্লাস ওয়ানের বাচ্চা যখন চিকনি চামেলি আর শিলা না দেখে ভাত খায় না তখন আমরা কি আশা করতে পারি? মেয়েটা হতে চাইবে শুটকি মাছ আর ছেলেটা চাইবে তাকে বিছানায়। এটাই সত্যি।

মা রা যখন হিন্দি সিরিয়াল দেখেন একবার ও ভেবে দেখেছেন কি মেয়ে টা কি জানছে??? বাবাও হয়ত পরকিয়া করে এ ধারণা করে বসে থাকলে কি করবেন?? বাবা শ্রদ্ধা পাবেন?? ছেলেদের কিভাবে ঘোরাতে হয় এটা হাতে কলমে শিখতে চাইলে দোষ টা কার??
ক্যাটরিনা কাইফের খোলা বুক পিঠ দেখে বড় হওয়া ছেলে টা যখন মেয়েদের মাংস পিন্ড ভাবে কোন বাবা কি তার দায়ভার এড়াতে পারেন?
নিজের বোন মেয়েকে মঞ্চে উঠিয়ে দিয়ে বিলাই এর মত হাঁটিয়ে যখন ভোট ভিক্ষা করি কোথায় আমাদের নীতিবোধ? বিশাল বিলবোর্ডে যখন শরীর দেখিয়ে আধুনিক হই কোথায় থাকে আমাদের শ্লীলতা???
ফাইভ না পেরোতেই হাতে আসে নোংড়া বই গুলো। নাইন টেনে না আসতেই ছেলে টা স্বপ্ন দেখে সানি লিওন নিয়ে। উন্মুক্ত যুগে ছেড়ে দিয়ে তার মানসিক যত্নের কথা কি মনে থাকে? এই ছেলেই বাসে মেয়েদের দিকে তাকিয়ে আগের দিনের ভিডিও এর কথা চিন্তা করে তার দোষ কোথায়??
পুঁজিবাদী যুগে মানুষ পণ্য। টাকা কামানোর মেশিন হওয়া ছাড়া কি শিখাই আমরা?? আমাদের বাজার বলে আজ পহেলা বৈশাখে ইলিশ না খেলে তুমি বাঙালি না , তুমি সানি লিওন না চিনলে আধুনিক না , মশারি গায়ে না নিলে মেয়ে তুমি আধুনিক না আর আমরা তাই মেনে নেই। নিজেকে এতটাই সস্তা করে ফেলেছি আমরা।
আমাদের পড়াশুনা কি কিছু জানতে? শিখতে? কিছু দিতে? আমরা চাই টাকা। লাখ লাখ কোটি কোটি। যে টাকায় মেয়ে টা নিজেকে সম্মান না করে রঙ মাখবে এই আশায় তাকে দেখতে সুন্দর লাগবে। একদিন ঢোলা আর একদিন চামড়া চিপকানো পাজামা পড়বে বিজ্ঞানের সমীকরণ না বুঝে। ছেলে টা জানে সে একদিন দুটা উইকেট পেলেই তার বউ হতে চাইবে হাজার হাজার মেয়ে। চরিত্র দিয়ে হয় কি! কোন দিন পাশে বসে বাবা ভাই কি বুঝিয়ে দিয়েছেন মা কত কষ্ট করেন?? কোন দিন বলেছেন নীল আলোর জন্য না মেয়েরা না থাকলে তার জন্ম ই হত না? বোন টা কত কষ্ট করে তার জন্য টিফিনের টাকা বাচিয়ে ভিডিও গেমস কিনে দেয়?? কোন দিন ছেলেটা দেখেছে মেয়েদের কেউ মেয়ে মানুষ না ভেবে মানুষ বলেছে? কেউ কি শিখিয়েছে তুমি কারো বিষয়ে নাক গলাবে না??
কেউ ছেলেটার গালে চড় দিয়েছে কেন সে মেয়েদের গায়ের ভাজ কিংবা মেকাপের স্তর নিয়ে গবেষনা করেছে? কেন চোখ নামিয়ে চরিত্র ব্যবচ্ছেদ বাদ দেয় নি?? কেউ কোন দিন হাত থেকে রিমোট কেড়ে নিয়ে বলেছে মেয়েরা টিভি স্ক্রিন আর বিছানা ছাড়া আরো অনেক খানে অনেক ভাবে থাকে?? মেয়ে মানে এঞ্জেলিনা জোলির হট ঠোঁট না , দীপিকার পিঠ না কিংবা সানি লিওনের নষ্টামি না। তোমার মা , বোন সন্তান সবাই মেয়ে। কেউ বলেছে??
কেউ কোন দিন মেয়েটাকে আয়নার সামনে থেকে নিয়ে গিয়ে মাইক্রোস্কোপ এর জগত দেখিয়েছে?? কেউ বলেছে তুমি লেডি গাগা না হলেও চলবে কারণ তুমি কাল সারা রাত ভাই টার মাথায় জলপট্টি দিয়েছ?? কেউ কি বলেছে তোমাকে আজ এক কেজি ময়দা না মাখলেও চলবে কারণ তুমি ম্যাথে ১০০ পেয়েছ?? কেউ কি বলবে তুমি আজ আনুশকার মত ড্রেস না বানালেও চলবে কারণ তুমি গুগলে জব করবে??
বলবেনা। বলেনা। আমি জানি। আমি তাই আজ মেয়ে হিসেবে ছেলেদের ঘেন্না করব না। ছেলে হলে লজ্জিত ও হতাম না। আমি মানুষ হিসেবে লজ্জিত। আমি সেই ব্যক্তি হিসেবে লজ্জিত যে বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে জেনেছে ছেলে মেয়ে দুটো আলাদা প্রজাতি। এখান থেকে শুধু ইঞ্জিনিয়ার না হট সেক্সি মেয়ে হতে চাইবার আর আপু সমাজ নিয়ে গবেষক এর মত অসুস্থ মানুষ বের হয়।
আমি ক্ষমা চাই আমার ভাই টার কাছে যে আমায় এক দলা মাংস ভাবে কারণ আমি তাকে আমার মানুষ পরিচয় দিতে পারিনি। আমার বোন টার কাছে যাকে বোঝাতে পারিনি আধুনিকতার আর এক নাম নিজেকে বাজারে বিক্রি করা না।
টি এস সি তে যারা এসব করেছে হাতের কাছে পেলে হয়ত রাগের মাথায় খুন ই করে ফেলতাম। কিন্ত তাদের মা বাবা আর সমাজ কে করতাম সবার আগে।
যে সমাজ মেয়েদের শেখায় নগ্নতা মানে আধুনিকতা আর ছেলেদের শেখায় মেয়ে ভোগের বস্ত সেই সমাজের মুখে লাথি মারি। আমি লজ্জিত এই সমাজের একজন হিসেবে।
লেখাঃ সাবিনা জামান পিংকি, রুয়েট।

Saturday, April 29, 2017

রেলগেট আদর্শ পৌর প্রাথমিক বিদ্যালয় কতৃক আয়োজিত জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর জন্মদিন ও স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে রচনা প্রতিযোগিতা ও পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে

রেলগেট আদর্শ পৌর প্রাথমিক বিদ্যালয় কতৃক আয়োজিত জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর জন্মদিন ও স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে রচনা প্রতিযোগিতা ও পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠান
সম্পন্ন হয়েছে,
উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যশোর পৌরসভার সংরক্ষিত মহিলা আসনের
কাউন্সিলর নাসিমা আক্তার জলি আপা,বিশেষ অতিথি যশোর জেলা যুবলীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক
ও আদর্শ পৌর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কমিটির পৌর মেয়র কতৃক  সভাপতি জনাব আজাহার হোসেন স্বপন,অতিথি হিসেবে ছিলেন পৌরসভার সম্মানিত সচিব মহোদয় এবং আরও উপস্থিত ছিলেন এম আই নয়ন, প্রাক্তন শিক্ষক শিক্ষিকা বৃন্দ প্রমুখ ।

picture,,,,,







Saturday, April 8, 2017

রহস্যময় গুহা


জমির মধ্যে খরগোশের কিংবা ইঁদুরের গর্ত অস্বাভাবিক কিছু নয়। কিন্তু তা যদি হয় মাটির নিচে অনেক বড় রহস্যময় গুহার প্রবেশ পথ তা হলে তা অবাক লাগবেই। ইংল্যান্ডের শ্রপশায়ারের বেকবুরির কাছে ক্যানটন হলে রয়েছে এরকম কিছু রহস্যময় গুহা। প্রচলিত আছে, আঠারো অথবা ঊনিশ শতকের আগে এই গুহা খনন করা হয়। তবে অনেক বিশেষজ্ঞ এটাকে নাইট টেম্পলারদের সাথে সম্পৃক্ত করে থাকেন। তাদের মতে এটা করা হয়েছিল বারো শ শতাব্দীতে ক্যাথলিক মিলিটারিদের আদেশে। জেরুজালেমে ছিল তাদের তীর্থস্থান। এই জেরুজালেমে যাওয়ার সময় ভয়ানক রাস্তা থেকে তীর্থ যাত্রীদের রক্ষা করার জন্যে এই গুহা নির্মাণ করা হয়েছিল। মধ্যযুগে এই আদেশ সমগ্র খ্রিস্টান সমাজে আরো জোরালো হয়ে উঠে। তবে চৌদ্দশ শতাব্দীর শুরুর দিকে আস্তে আস্তে তা হারিয়ে যায়। কিন্তু এই আদেশ আকস্মিক বন্ধ হয়ে যাবার ফলে খ্রিস্টানদের ওপর নিপীড়নের নানাবিধ কাল্পনিক ও পৌরাণিক কাহিনি চারিদিকে ছড়িয়ে পড়তে থাকে। ক্যানটন গুহা এর মধ্যে অন্যতম।

এম আই নয়ন : গুহা উদ্ভবের সঠিক কারণ এখনো জানা যায়নি। মনে করা হয় এটি ২০০ বছর অথবা অর্ধ সহস্রাব্দেরেও পুরাতন হতে পারে, যখন টেম্পলারের আদেশ বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল। সম্ভাব্য এবং মোটামুটি গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা যা ধরা যেতে পারে, ঊনিশ শতকের দিকে মূল্যবান পাথর খুঁজতে গিয়ে এই গুহার সৃষ্টি হয়েছিল এবং পরবর্তীতে জমির মালিক এটাকে সুন্দর সুসজ্জিত একটি মনোরম প্রাকৃতিক গুহায় রূপান্তরিত করেন। গুহাটিতে রয়েছে নব্য রোমান যুগের স্থাপত্যশিল্পের মতো করে তৈরি করা কিছু রাস্তার সারি এবং বেলেপাথরের দেয়ালে খোদাই করা বেশ কিছু প্রকোষ্ঠ। এ ছাড়া এর মধ্যে ধনুকের মতো বাঁকানো খোদাই করা ছাঁদ, পিলার, তার গায়ে নকশা, এবং মোমবাতি রাখা যেতে পারে এমন ছোট ছোট গর্ত করাও রয়েছে।
অনেক আগে উদ্ভব হলেও এই ক্যানটন গুহা খবরে আসে অনেক পরে। কারণ অনেক বছর পর এক ফটোগ্রাফার এই নিষিদ্ধ গুহায় প্রবেশের সুযোগ পেয়েছিল। এটি লোকচক্ষুর আড়ালে ছিল কারণ এই গুহাটি এক ব্যক্তির সম্পত্তির আওতায় ছিল। আর সেখানে সর্ব সাধারণের প্রবেশাধিকার ছিল না। তবে সেই ফটোগ্রাফারের প্রতিবেদনটি রাতারাতি বিভিন্ন নিউজ চ্যানেল, নিউজ পোর্টালে ভিন্ন ভিন্ন কাল্পনিক ও চমকপ্রদ শিরোনাম আসতে থাকে। ক্যানটন গুহা এই সময়ের আবিষ্কার নয় তবে এটা ৭০০ বছরের পুরাতন নাইট টেম্পলারের গুহাও নয়।

ক্যানটন গুহা তার নিজস্ব মহিমার কারণেই সবার কাছে কৌতূহলের একটি ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটাকে আরো আকর্ষণীয় করার জন্য কোনো অতিরঞ্জিত কল্পকাহিনির প্রয়োজন নেই।

Friday, March 24, 2017

নতুন চুল দেবে থানকুনি পাতা


সমস্যা সমাধান ও রোগ নিরাময়ের জন্য আমরা কত কিনা করি। চিকিৎসা করতে গিয়ে বেশ ক্ষতি ডেকে আনি নিজেদের জন্যই। কষ্ট লাঘবে তখন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার বিষয়টা মাথায় থাকে না। বিশেষ করে টাইফয়েড জ্বর, ডায়রিয়া, কলেরার মতো পেটের রোগে অ্যান্টিবায়োটিকও চলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াযুক্ত ওই সব ওষুধগুলির দামও অনেক সময় নিম্ন আয়ের মানুষের নাগালের বাইরে হয়ে যায়। অথচ আমাদের হাতের কাছেই কিছু ভেষজ গাছ রয়েছে, যেগুলি অত্যন্ত অল্প দামে বা একটু খুঁজলে বিনামূল্যেও পাওয়া যায়, আমরা জানি না। অনেক সময় জেনেও, বিশ্বাস হয় না। তেমনই একটি ভেষজ উদ্ভিদ হল থানকুনি।

থানকুনি আমাদের অতিপরিচিত পাতা। পুকুরপাড় বা জলাশয়ে হামেশাই দেখা মেলে। কথায় বলে, পেট ভালো থাকলে মনও ফুরফুরে থাকে। চিকিৎসকরাই বলছেন, থানকুনি পাতার এমন ভেষজ গুণ রয়েছে, মিয়মিত খেতে পারলে, পেটের অসুখে কোনও দিনও ভুগতে হবে না। শরীর-স্বাস্থ্য তো সতেজ থাকেই, ছোট থেকে খাওয়াতে পারলে বুদ্ধিরও বিকাশ হয়। দেখে নেয়া যাক, যৌবন ধরে রাখতে ও সুস্থ থাকতে থানকুনি পাতার ভেষজ গুণগুলি।

১. পেটের রোগ নির্মূল করতে থানকুনির বিকল্প নেই। নিয়মিত খেলে যে কোনও পেটের রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। একই সঙ্গে পেট নিয়ে কোনও দিনও সমস্যায় ভুগতে হয় না।

২. শুধু পেটই নয়, আলসার, এগজিমা, হাঁপানিসহ নানা চর্মরোগ সেরে যায় থানকুনি পাতা খেলে। ত্বকের জেল্লা বাড়ে।

৩. থানকুনি পাতায় থাকে Bacoside A ও B। Bacoside B মস্তিষ্কের কোষ গঠনে সাহায্য করে ও রক্ত চলাচল বাড়ায়। থানকুনি পাতা নিয়মিত খেলে স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি পায়।

৪. থানকুনি স্নায়ুতন্ত্রকে সক্রিয় রাখতে সাহায্য করে।

৫. মৃতকোষের ফলে চামড়ায় অনেক সময়ই শুষ্ক ছাল ওঠে। রুক্ষ হয়ে যায়। থানকুনি পাতার রস মৃতকোষগুলিকে পুনর্গঠন করে ত্বক মসৃণ করে দেয়।

৬. পুরনো ক্ষত কোনও ওষুধেই না সারলে, থানকুনি পাতা সিদ্ধ করে তার জল লাগালে সেরে যায়। সদ্য ক্ষতে থানকুনি পাতা বেটে লাগালে, ক্ষত নিরাময় হয়ে যায়।

৭. থানকুনি পাতা চুল পড়া আটকে দেয়। এমনকি নতুন চুল গজাতেও সাহায্য করে।

৮. বয়স বাড়লেও, যৌবন ধরে রেখে দেয় থানকুনি পাতার রস। প্রতিদিন একগ্লাস দুধে ৫-৬ চা চামচ থানকুনি পাতার রস মিশিয়ে খেলে, চেহারায় লাবণ্য চলে আসে। আত্মবিশ্বাসও বেড়ে যায়।

৯. দাঁতের রোগ সারাতেও থানকুনির জুড়ি মেলা ভার। মাড়ি থেকে রক্ত পড়লে বা দাঁতে ব্যথা করলে একটা বড় বাটিতে থানকুনি পাতা সিদ্ধ করে, তারপর ছেঁকে নিয়ে সেই জল দিয়ে কুলকুচি করলে উপকার পাওয়া যায় চটজলদি।

খিদে বাড়ানোর সহজ উপায়

আমরা সবাই ওজন কমানোর জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়ি। আর তাই খিদে থাকা সত্বেও অনেকেই অনেক কিছু খাওয়া থেকে বিরত থাকেন। কিন্তু কখনও খেয়ালও থাকে না যে এই পৃথিবীতে এমনও কিছু মানুষ আছে যাদের খুব কম খিদে পায়। অর্থাৎ খিদে না পাওয়ার সমস্যায় ভোগেন অনেকেই। আর এ কারেণে তাদের শরীরও বেশ রোগা। তাই আজ জেনে নিন কীভাবে খিদে বাড়ানো যায়।
> খাওয়ার পর মুখশুদ্ধি হিসেবে মৌরি খাওয়ার রেওয়াজ রয়েছে। যা লিভারে বাইলের পরিমাণ বাড়িয়ে হজমে সাহায্য করে। প্রতি দিন ২-৩ কাপ পানিতে আধা চা চামচ মৌরি ও আধা চা চামচ মেথি ফুটিয়ে সেই পানি ছেঁকে খেলে খিদে বাড়বে।

> খিদে বাড়ানোয় যোগাসনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। প্রতি দিন নিয়ম করে ৩০-৪৫ মিনিট যোগাসন করুন। এতে হজম ক্ষমতা বাড়ে। ফলে খিদেও বেড়ে যাবে।

> কড়া গন্ধের পাশাপাশি আদার মধ্যে থাকা তেল হজমে সাহায্য করে। ফুটন্ত পানিতে আধা চামচ আদার রস দিয়ে দিনে দু’বার খান। রান্নায় আদা ব্যবহার করলেও উপকার পাবেন।

> আপেল, পেয়ারা, কমলালেবু, আঙুর, ব্ল্যাকবেরির মতো ফল খিদে বাড়াতে পারে। তেমনই টমেটো, ধনেপাতা, ব্রকলির মতো সবজি হজমে সাহায্য করে। ডায়েটে এই ধরনের ফল ও সবজি রাখলে স্বাভাবিক ভাবেই খিদে পাবে।

> যদি আপনার খিদে কমে যায় তাহলে খাওয়ার আগে ও খাবারের সাথে পানি, কফি,অ্যালকোহল বা যে কোনো পানীয় খাওয়া এড়িয়ে চলুন। কারণ এতে খিদে কমে যায়।

> খিদে না পাওয়ার অন্যতম কারণ হলো কোনো নির্দিষ্ট রুটিন মেনে না চলা। প্রতি দিন ঘুমোতে যাওয়া, ঘুম থেকে ওঠার নির্দিষ্ট সময় মেনে চললে, হালকা শরীরচর্চা করলে, নিয়মিত সময় মেনে খাবার খেলে খিদেও পাবে নিয়ম মেনেই।

Thursday, March 23, 2017

আপনি কি বুদ্ধিমান? ১৬ লক্ষণে জেনে নিন


মানুষের বুদ্ধিমত্তা নিজে থেকে নির্ণয় করা যায় না। এমনকি অন্যরা আপনাকে যদি বুদ্ধিমান বলে মনে নাও করে তার পরেও আপনার কিছু লক্ষণ দেখে বুদ্ধিমত্তা বিষয়ে ধারণা পাওয়া যেতে পারে। এ লেখায় দেওয়া হলো ১৭টি লক্ষণ, যা আপনার বুদ্ধিমত্তা প্রকাশ করে। এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে বিজনেস ইনসাইডার।
.
১. সঙ্গীত শেখা :
সঙ্গীতের সঙ্গে বুদ্ধিমত্তার সম্পর্ক পাওয়া গেছে বহু গবেষণাতেই। গবেষকরা জানিয়েছেন আপনি যদি সঙ্গীত অনুশীলন করেন তাহলে আপনার বুদ্ধিমত্তা বেশি হবে।
.
২. বড় ভাই :
ছোট ভাইদের সামনে বড় ভাইকে নানা অনুকরণীয় উদাহরণ সৃষ্টি করতে হয়। পরিবারের বড় ভাই প্রায়ই অন্য ভাইদের তুলনায় বুদ্ধিমান হয়ে থাকে।
.
৩. হালকা-পাতলা :
হালকা-পাতলা দেহের অধিকারীরা অন্যদের তুলনায় বুদ্ধিমান হয়ে থাকে। বিভিন্ন গবেষণায় বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে।
.
৪. বিড়াল পোষা :
২০১৪ সালে এক গবেষণায় দেখা গেছে যারা কুকুর পালন করে তাদের তুলনায় বিড়াল পালনকারীরা বুদ্ধিমান হয়ে থাকে।
.
৫. মায়ের দুধ খাওয়া :
যে মায়েরা সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়ান তাদের সন্তানের বুদ্ধি ভালো হয়। তবে অন্য খাবার খেয়ে থাকলে সে তুলনায় বুদ্ধি কম হতে পারে।
.
৬. বিনোদনমূলক ওষুধ :
২০১২ সালে এক গবেষণায় দেখা যায়, যারা বিনোদনমূলক নানা ওষুধ সেবন করেন তাদের আইকিউ বেশি থাকে।
.
৭. বাঁহাতি :
ডান হাত যারা ব্যবহার করেন তাদের তুলনায় বাঁ হাত ব্যবহারকারীরা বুদ্ধিমান হয়।
.
৮. লম্বা :
খাটো মানুষদের তুলনায় লম্বাদের আইকিউ বেশি হয়ে থাকে। ২০০৮ সালের এক গবেষণায় বিষয়টি প্রমাণিত হয়।
.
৯. তাড়াতাড়ি পড়া :
২০১২ সালে গবেষকরা দুই হাজার জোড়া একই ধরনের যমজ সন্তানের ওপর গবেষণা করেন। এতে তারা উভয়ের মাঝে যারা তাড়াতাড়ি পড়া শিখেছে তাদের মধ্যে বেশি বুদ্ধিমান হয়ে ওঠার প্রবণতা দেখতে পান।
.
১০. ভীত :
এক গবেষণায় দেখা যায় যারা নিয়মিত নানা কারণে ভয় পায় তাদের বুদ্ধি বেশি হয়।
.
১১. মজার :
বুদ্ধিমান মানুষের রসবোধ ভালো হয়। এক গবেষণায় দেখা যায়, যারা রসিক মানুষ এবং নানাভাবে অন্যদের হাসাতে পারে তাদের বুদ্ধিমত্তা অন্যদের তুলনায় বেশি।
.
১২. কৌতুহলী :
কৌতুহলী মানুষ অন্যদের তুলনায় বেশি বুদ্ধিমান হয়ে থাকে। বিভিন্ন গবেষণাতেও বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে।
.
১৩. অগোছালো :
অগোছালো মানুষ বনাম গোছালো মানুষের মাঝে এক তুলনামূলক গবেষণায় দেখা যায়, অগোছালো মানুষই বেশি বুদ্ধিমান।
.
১৪. প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত যৌনতা নয় :
গবেষণায় দেখা গেছে, যাদের আইকিউ স্কোর ভালো তারা সাধারণত স্কুলে থাকতে কিংবা অল্পবয়সে যৌনতায় লিপ্ত হয় না। অনেক বয়স পর্যন্ত তারা তাদের কৌমার্য ধরে রাখে।
.
১৫. রাতজাগা পাখি :
রাতে যারা জেগে থাকেন তাদের বুদ্ধি অন্যদের তুলনায় বেশি হয় বলেই উঠে এসেছে গবেষণায়। এতে জানা গেছে, সকালে যারা ঘুম থেকে ওঠে তাদের তুলনায় ‘রাতজাগা পাখিরা’ বুদ্ধিমান হয়ে থাকে।
.
১৬. প্রায়ই কঠোর পরিশ্রমী নয় :
বুদ্ধিমান মানুষ সর্বদা কঠোর পরিশ্রমী হয় না। গবেষকরা জানিয়েছেন, আলসে মানুষ মাত্রই যে, বুদ্ধিমান তা নয়। তবে বহু আলসে মানুষই বুদ্ধিমান। কঠোর পরিশ্রমের ক্ষেত্রে তারা সর্বদা যে সামনে এগিয়ে যায়, এমনটা নয়।

Wednesday, March 22, 2017

ক্ষমা সম্পর্কে বিজ্ঞানসম্মত ১৪ বিষয়




 ক্ষমাশীল হওয়াটা স্বাস্থ্যের জন্যও ভালো। ক্ষমাশীলতা সম্পর্কে বৈজ্ঞানিক ১৪টি পর্যবেক্ষণ নিয়ে দুই পর্বের প্রতিবেদনে আজ থাকছে প্রথম পর্বে থাকছে ৭টি বিষয়।

বিড়াল কখনই ক্ষমা করে না
গরিলা এবং শিম্পাঞ্জির মতো প্রাচীণ বন্য প্রাণীরা প্রায়ই আলিঙ্গন বা চুম্বনের মতো মুহুর্তে খুবই বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করে। ছাগল এবং হায়েনাদের মতো প্রাণীদের মধ্যে একই আচরণ পরিলক্ষিত হয়। শুধুমাত্র একটি প্রজাতির মধ্যেই এখনও পর্যন্ত ক্ষমাশীলতার কোনো বাহ্যিক লক্ষণ দেখা যায়নি। আর সেই প্রজাতিটি হচ্ছে, গৃহপালিত বিড়াল।

কোনো অপরাধই ক্ষমার অযোগ্য নয়
ক্ষমাশীলতা নিয়ে গবেষণা করা মনোবিজ্ঞানী রবার্ট ইনরাইট বলেন, ‘আমি বিশ্বে এমন কোনো কর্ম খুঁজে পাইনি যার জন্য অন্তত একজন মানুষ ক্ষমা পায়নি।’

কিন্তু বিশ্বাসঘাতকতা সম্পর্কে হুঁশিয়ার
২০১০ এর একটি সমীক্ষা অনুযায়ী, ক্ষমার অযোগ্য সবচেয়ে সাধারণ অপরাধ হচ্ছে, বিশ্বাসঘাতকতা। যার মধ্যে সম্পর্ক ভাঙা, প্রতারণা, প্রতিজ্ঞা ভাঙা এবং বেফাঁস গোপন কথা ফাঁসের ঘটনাই সবচেয়ে বেশি ঘটে।

ক্ষমা বিভিন্ন ধরনের হয়
কেউ হয়তো আপনার প্রতি অবিচার করেছে, আপনি সিদ্ধান্ত নিলেন যে তার সঙ্গে আন্তরিকভাবে আচরণ করবেন। এটিকে বলে সিদ্ধান্তজনীত ক্ষমা। আবার সহানুভূতি, সমবেদনা, সহানুভূতি এবং এমনকি ভালোবাসার মতো ইতিবাচক আবেগের কারণে যখন আপনি কাউকে ক্ষমা করে দেন তখন তাকে বলে আবেগজনীত ক্ষমা।

অল্প বয়সী বাচ্চারা সহজে ক্ষমা করতে পারে
এক গবেষণায় দেখা গেছে, দশ এবং এগার বছর বয়সীদের চাইতে, সাত এবং আট বছর বয়সীরা বেশি ক্ষমাশীল। এমনকি তাদের কাছে ক্ষমা চাইতেও হয় না। যারা ক্ষমা প্রার্থনা করে আর যারা ক্ষমা প্রার্থনা করে না উভয় অপরাধীকেই সমভাবেই ক্ষমা করে দেয় তারা।

যারা বর্হিমুখী তাদের ক্ষমা প্রয়োজন
ক্ষমা চাওয়ার ক্ষেত্রে বর্হিমুখীরা অন্তর্মুখীদের তুলনায় (এবং তারা অন্যদেরকেই দ্রুতই ক্ষমা করে দেয়) বেশি সক্রিয়। অন্তর্মুখীরা

সুস্থ থাকতে আরো ক্ষমাশীল হোন
মানুষের মনে যখন অসন্তোষ জমতে থাকে তখন তাদের হৃদস্পন্দন ও রক্তচাপ বেড়ে যায়। অপরপক্ষে ক্ষমাশীলাতায় হৃদয় এবং স্বাস্থ্য  ভালো  থাকে। পাশাপাশি আপনি যখন অতীতের রাগ- অসন্তোষ ভুলে যাবেন তখন তা আপনার ভালো ঘুমের জন্যও সহায়ক হবে।

তথ্যসূত্র : রিডার্স ডাইজেস্ট

এত্তো বড় মুরগি!




 মুরগি নাকি বিলুপ্ত ডায়নোসরের বংশধর! এটা কি জানতেন আপনি? একটা গোবেচারা ধরনের প্রাণি, সে আবার ভয়ঙ্কর ডায়নোসরের বংশ হয় কীভাবে?

এ প্রশ্ন যদি আপনার মনে আসে, তাহলে নিচের ভিডিওটি অবশ্যই সে প্রশ্নের একটা যুক্তিসঙ্গত উত্তর দেবে। ভিডিওটি দেখে হলিউডের কোনো সাইফাই মুভি বা এ জাতীয় কোনো উপন্যাসের কথা মনে পড়ে যায়। গত দু-তিন ধরে ফেসবুক, টুইটারসহ সোশ্যাল মিডিয়াতে দানব আকৃতির এক মুরগি নিয়ে খুব সাড়া পড়েছে। ফেসবুক পেইজ স্পেজটারিয়া ডেকোরেটিভে প্রথম এই মুরগির ভিডিও আপলোড করা হয়। এর নাম দেওয়া হয় মেরাকলি।

এরপর টুইটারে এই মেরাকলি নিয়ে হৈ চৈ পড়ে যায়। কেউ কেউ বলছেন, এটা আসলে মুরগি না, কোনো মানুষই মুরগির মতো সেজেছে, বোকা বানানো হচ্ছে সবাইকে। তবে বিশেষজ্ঞরা দানব মুরগির ওই ভিডিও দেখে নিশ্চিত করে বলেছেন যে আসলেই এটা একটা মুরগি। কোনো ভিডিও কারসাজি নয়, এটা একটা দানব মুরগি যা দেখে ভয়ও জাগে মনে। ভিডিওতে মুরগির বাসা থেকে একটা বিশাল মুরগিকে বের হয়ে দানবীয় ভঙিতে হাঁটতে দেখা যাচ্ছে। আরেকটা মুরগি লুকিয়ে পড়ছে বাসার পেছনে। এরা ব্রাহমা প্রজাতির মুরগি, যা চীন থেকে আমদানি করে এখন আমেরিকার কিছু এলাকাতেও ফার্মে এদের লালন পালন করা হচ্ছে।

এ প্রজাতির মুরগিকে ‘কিং অব অল পোল্ট্রি’ বলা হয়। ২০ শতকের শুরুর দিকে আমেরিকায় এ ধরনের মুরগির মাংসের চাহিদা খুব বেড়ে গিয়েছিল। আমেরিকার লাইভস্টক কনজারভেন্সি প্রতিষ্ঠানের মতে এ ধরনের মুরগির ওজন ১৪ পাউন্ড ও মোরগের ওজন ১৮ পাউন্ডেরও বেশি হতে পারে। চার সদস্যের একটি পরিবারের লোকেরা এই মুরগির মাংস এক সপ্তাহ ধরে খেতে পারবেন।
ভিডিও দেখুন...https://www.youtube.com/watch?v=tdnqkxt4sGo

Monday, August 31, 2015

                                   

                                  মানসিক ব্যাধি! its selfie



নিজস্বী বা সেলফি (সেল্ফি) হলো আত্ম-প্রতিকৃতি আলোকচিত্র বা দল আলোকচিত্র, যা সাধারণত হাতে-ধরা ডিজিটাল ক্যামেরা বা ক্যামেরা ফোন ব্যবহার করে নেয়া হয়. সেলফি প্রায়ই ফেসবুক, গুগল + +, ইন্সটাগ্রাম, স্ন্যাপচ্যাট, টাম্বলার এবং টুইটারে ইত্যাদি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে শেয়ার করা হয়ে থাকে.
সেলফি শব্দটি প্রথম এসেছে ইংরেজি সেলফিশ থেকে. সেলফি অর্থ প্রতিকৃতি. অক্সফোর্ড অভিধানের মতে, সেলফি হল একটি ছবি (আলোকচিত্র) যা নিজের তোলা নিজের প্রতিকৃতি, যা সাধারণত স্মার্টফোন বা ওয়েবক্যামে ধারণকৃত এবং যে কোনো সামাজিক মাধ্যমে আপলোড (তুলে দেয়া) করা হয়ে থাকে. বেশিরভাগ সেলফি হাত সামনে তুলে বা আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে, কখনো-কখনো সেল্ফ টাইমার ব্যবহার করেও নেয়া হয়.

রবার্ট কর্ণিলিয়াস, একজন মার্কিন অগ্রণী আলোকচিত্রী, যিনি 1839 সালে নিজের একটি দাগেররোতীপ্ বা আত্ম-প্রতিকৃতি ক্যামেরায় ধারণ করেন, যা ছিল প্রথম কোন একজন ব্যক্তির আলোকচিত্র.

1900 সালে পোর্টেবল কোডাক ব্রাউনি বক্স ক্যামেরা বাজারে আসার পর ফোটোগ্রাফিক আত্ম-প্রতিকৃতি তোলা বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করে. বহনে সহজ এই ক্যামেরার সাহায্যে আয়নার মাধ্যমে সেলফি তোলার প্রচলন শুরু হয় তখন থকেই.

সেলফি শব্দটির প্রাথমিক ব্যবহার ২00২ এর আগে পাওয়া গেলেও, ২00২ সালের 13 ই সেপ্টেম্বর অস্ট্রেলিয়ান এক অনলাইন ফোরামে (এবিসি অনলাইন) প্রথম ব্যাবহৃত হয়. 

ফেসবুক এর আগের সময়টায় মাইস্পেস বেশ জনপ্রিয় ছিল. এবং সে কারনেই সেলফি সর্ব প্রথম জনপ্রিয়তা পায় সেখানেই. তারপর ফেসবুক জনপ্রিয় হওয়ার পর অনেক দিন পর্যন্ত সেলফি নিম্ন রুচির পরিচায়ক ছিল. [কারন তখন বেশিরভাগ সেলফি গুলো বাথরুমের আয়নার সামনে তোলা হত.] তবে শুরু থেকেই ইমেজ শেয়ারিং সাইট ফ্লিকার এ জনপ্রিয় ছিলো সেলফি. তবে তখনকার দিনের সব সেলফি গুলোই টিন এজ মেয়েরা আপলোড করত. প্রাথমিক অবস্থায় তরুণদের মধ্যে সেলফি অধিক জনপ্রিয়তা পেলেও বর্তমানে এটি সমাজের সকল স্তরে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে. ২01২ সালের শেষের দিকে টাইম ম্যাগাজিনের দৃষ্টিতে 'সেলফি' শব্দটি বছরের আলোচিত সেরা দশ শব্দের অন্যতম শব্দ হিসাবে বিবেচিত হয়. ২013 সালের জরিপ অনুযায়ী অস্ট্রেলিয়ান মহিলাদের দুই তৃতীয়াংশই (যাদের বয়স 18-35) ফেসবুকে শেয়ারের উদ্দেশে সেলফি তুলেছেন. স্মার্টফোন এবং ক্যামেরা প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান স্যামসাং এর জরিপ প্রতিবেদন বলছেঃ 18-২4 বছর বয়েসি মানুষের তোলা ছবির 30% ই সেলফি. ২013 সালে অক্সফোর্ড ইংলিশ ডিকশনারির অনলাইন ভার্সনে 'সেলফি' শব্দটি নতুন সংযোজিত হয়. স্মার্টফোনের কল্যানে গত এক বছরে বাংলাদেশ সহ সমগ্র বিশ্বে সেলফি তুমুল জনপ্রিয় হয়ে উঠে.


ফেসবুক এবং ফেসবুকের লাইক কমেন্টের জন্য বর্তমানে সেলফি ব্যবহৃত হয়, এটা একটা ব্যাধিতে পরিনত হইয়েছে কারন অনেকে মনে করে ফেসবুকের নিজের সেলফিতে যত লাইক কমেন্ট বেশি হবে তত তার জনপ্রিয়তা বেশি হবে ।অনেকে তার সেলফিতে লাইক না দিলে ফেসবুক ফ্রেন্ডদের আনফ্রেন্ড করে দেয়। এটা অনেক সময় অহংকার ঘৃনিত ও হিন্সাত্তক প্রবৃতি সৃষ্টি করে ,অনেকে এটা অনেক সময় হাস্যকার পরিস্তিতি হয়,যেমন তার সেলফিতে লাইক কমেন্টের জন্য আকুতি মিনতি শুরু করে যা অনেক টা বিভ্রান্তি ছড়ায়।।


"Facebook and the Facebook comment selaphi currently is used for, it becomes a disease that did all this because there are many Facebook likes as his selaphite comment will be higher than the popularity of the Facebook friends anaphrenda People do not like it that his selaphite. It creates a lot of pride ghrnita and hinsattaka prabrti, many hasyakara .Paristitira it is a lot of time, such as the desire for mentioning his selaphite Like many at the start pleaded confusion" ..

আপনার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট আছে অথচ সেলফি পোস্ট করেন না, তাহলে আপনি ‘খেত’। না, এটা আমার কথা নয়, আজকাল অনেক তরুণ-তরুণীর ধারণা এরকমই। তাই যেখানে যান, যা-ই করেন সঙ্গে একটা সেলফি তুলে পোস্ট করুন ফেসবুকে।

সেলফি-ম্যানিয়া এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, কেউ কেউ তো হাসপাতালের বেডে মৃত্যুযন্ত্রণায় কাতরাতে কাতরাতে সেলফি তুলে ফেসবুকে পোস্ট করে লিখেন- ফিলিং পেইনড। সড়ক দুর্ঘটনায় কোনোরকমে বেঁচে গিয়ে ভাঙা গাড়ির সঙ্গে সেলফি তুলে লিখেন- ফিলিং ব্লেজড। পড়তে, লিখতে, হাঁটতে, খেলতে, রান্না করতে, কাজ করতে গিয়ে সেলফি তোলা তো একটা নৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে আজকাল।

অনেকে প্রতিদিন সেলফি আপলোড করে ফেসবুকের সামনে বসে থাকেন কয়জন লাইক এবং কমেন্ট করে তা গুণতে।কে কী কমেন্ট করল তা দেখতে, আর রিপ্লাই দিতে কেটে যায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা। কাছের মানুষদের কেউ কমেন্ট না করলে তো তার ওপর অভিমান, এমনকি ঝগড়াও হয়।

অফিসে কাজ ফেলে সেলফি তুলে পোস্ট করতে আর লাইক-কমেন্ট গুণতেও দেখেছি অনেক
        স্মার্টফোনে বার বার নিজের ছবি তুলে দেখেন? গবেষকেরা সতর্ক করে বলছেন, স্মার্টফোন সেলফি তোলার এই অভ্যাস ভয়ংকর বিপদজনক হতে পারে।
                                                          ( india       speceal selfhi)
মার্কিন গবেষকেরা দাবি করেছেন, অতিরিক্ত সেলফি তোলার অভ্যাসের সঙ্গে মানসিক ব্যাধির সম্পর্ক থাকতে পারে। নিজের চেহারা প্রতি আকর্ষণ অনুভব করা মানসিক স্বাস্থ্যকে ঝুঁকির মুখে ফেলে দিতে পারে। ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস টাইমসের এক খবরে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

আমেরিকান সাইক্রিয়াটিক অ্যাসোসিয়েশন (এপিএ) সম্প্রতি মানসিক ব্যাধির সঙ্গে সেলফি তোলার সম্পর্কের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। শিকাগোতে প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক পরিচালনা পর্ষদের সভায় সেলফির সঙ্গে মানসিক ব্যাধির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। গবেষকেরা দাবি করেছেন, অতিরিক্ত নিজের ছবি তোলার প্রবণতা এবং সেই ছবি সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইটে দেওয়ার এই মানসিক সমস্যার নাম ‘সেলফিটিস’।
গবেষকেরা জানিয়েছেন, ব্যাধিটির তিনটি স্তর হতে পারে। প্রথম স্তরটি ‘বর্ডার লাইন সেলফিটিস’। মানসিক সমস্যার এই পর্যায়ে দিনে তিনবার নিজের ছবি তুলে কিন্তু সামাজিক যোগাযোগের সাইটে তা পোস্ট না করা। দ্বিতীয় স্তরটি হচ্ছে ‘অ্যাকিউট সেলফিটিস’। এই পর্যায়ে দিনে অন্তত তিনটি নিজের সেলফি তুলে সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইটে তিনটি সেলফিই পোস্ট করা হয়। শেষ স্তরটি হচ্ছে ‘ক্রনিক সেলফিটিস’। এ পর্যায়ে নিজের সেলফি তোলা রোধ করা যায় না। দিনে অন্তত ছয়বার সেলফি তুলে সামাজিক যোগাযোগের সাইটে পোস্ট করতে দেখা যায়। এ ছাড়া বারবার নিজের ছবি তোলার প্রবণতা থাকে ক্রনিক সেলফিটিস পর্যায়ে।
গবেষকেরা এই মানসিক সমস্যার আপাতত কোনো সমাধান নেই বলেই জানিয়েছেন। তবে সাময়িক চিকিত্সা হিসেবে কগনিটিভ বিহেভিয়েরাল থেরাপি (সিবিটি) কাজে লাগতে পারে বলে মনে করছেন তাঁরা। মানসিক রোগের চিকিত্সকেরা দাবি করছেন, অতিরিক্ত সেলফি তোলার সঙ্গে নার্সিসিজম ও আসক্তিরও সম্পর্ক থাকতে পারে। গবেষক ডেভিড ভিল জানিয়েছেন, বডি ডিসফরমিক ডিজঅর্ডারে ভুক্তভোগী দুই তৃতীয়াংশ রোগীর ক্ষেত্রেই সেলফির সম্পর্ক দেখেছেন তিনি।
কিছু শেলফি...
some selfie








Friday, August 7, 2015

সুখ কারে বলে?




সুখ একটি মানবিক অনুভুতি. সুখ মনের একটি অবস্থা বা অনুভূতি যা ভালোবাসা, তৃপ্তি, আনন্দ বা উচ্ছ্বাস দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়. [1] জৈবিক, মানসিক, মনস্তাত্ত্বিক, দর্শনভিত্তিক এবং ধার্মিক দিক থেকে সুখের সংজ্ঞা নির্ধারণ এবং এর উৎস নির্ণয়ের প্রচেষ্টা সাধিত হয়েছে. সঠিকভাবে সুখ পরিমাপ করা অত্যন্ত কঠিন. গবেষকেরা [২] একটি কৌশল উদ্ভাবন করেছেন যা দিয়ে সুখের পরিমাপ কিছুটা হলেও করা সম্ভব. মনোবিজ্ঞান বিশেষজ্ঞরা তাত্ত্বিক মডেলের ভিত্তিতে সুখ পরিমাপ করে থাকেন. এই মডেলে সুখকে ইতিবাচক কর্ম ও আবেগসমূহের সমষ্টি হিসেবে বিবেচনা করা হয়. এছাড়া এক্ষেত্রে তিনটি বিশেষ অবস্থাকেও বিবেচনা করা হয়: আনন্দ, অঙ্গীকার এবং অর্থ.গবেষকগণ কিছু বৈশিষ্ট্য শনাক্ত করেছেন যেগুলো সুখের সাথে পারস্পরিকভাবে সম্পর্কযুক্ত: বিভিন্ন সামাজিক সম্পর্ক, বহির্মুখী বা অন্তর্মুখী অবস্থা, বৈবাহিক অবস্থা, স্বাস্থ্য, গণতান্ত্রিক স্বাধীনতা, আশাবাদ, ধর্মীয় সম্পৃক্ততা, আয় এবং অন্যান্য সুখী মানুষের সাথে নৈকট্য.

সুখ কি?
সুখ- এর জৈবিক সংজ্ঞা : কোন স্টিমুলাস বা উত্তেজকের প্রতি আমাদের মস্তিষ্কের রাসায়নিক ও স্নায়বিক প্রতিক্রিয়া যা আমাদের ভেতর সুখের অনুভব তৈরী করে
আবিষ্কৃত রাসায়নিক যৌগ "এন্ডরফিন্স" গুলোকেই এই "সুখের" মূল বলে বিভিন্ন গবেষনায় জানা যায় এখন ঘটনা হইলো, এন্ডো মানে হইলো ভিতরের আর মরফিন মানে বেদনা নাশক তার মানে কি দাড়াইলো ? সুখের রাসায়নিক শরীরের ভিতরের বেদনাকে কিংবা অসুখের অবস্থাকে পরিবর্তন করে সুখের অবস্থায় নিয়ে যায়
ক্ষুধা পেলে সুস্বাদু খাবার আমাকে সুখ দেয়, সুখ দেয় প্রিয় মানুষের চুম্বন। প্রিয় দেশের জয় আমাকে সুখ দেয়, সুখ দেয় পড়ন্ত বিকেলের রোদ। সুখের অনুভবকে বিশ্লেষন করতে গিয়ে বিজ্ঞানীরা তাই ইন্দ্রিয়কে অনুসন্ধান করেছেন, মানবের মস্তিষ্ককে কেটে ছিড়ে দেখেছেন এবং আমাদের জানিয়েছেন - সুখের স্টিমুলাস বা উত্তেজক শরীরের বাহির থেকে পাঁচটি ইন্দ্রিয়ের সাহায্যে ভেতরে আসুক, অথবা ভিতরের কোন এক উৎস থেকে মস্তিষ্কে পৌঁছাক - সুখ আসলে শেষ পর্যন্ত কিছু জৈব রাসায়নিক পদার্থের উপস্থিতি ।
জীবণে সবাই সুখী হতে চায়, কিন্তু, কেউ কি একজন সুখী মানুষের ছবি চিএপটে তুলতে পারবেন? না, আমরা কেউ পারব না আশ্চর্য, কি অদ্ভূত অক্ষমতা!!! আসলে সুখ কি? সন্তুষ্টি, আনন্দ, হাসি, তৃপ্তি, সাফল্য, সমৃদ্ধি, সম্মান, স্বীকৃতি, ভালবাসা, যত্ন -এগুলো কি সুখের অবয়ব? কি দিয়ে সুখের ছবি আঁকা যায়? আমি সুখ খুঁজি অনুভূতিতে, ভাবনায়, না পাওয়ার এ পৃথিবীতে কিছু পাওয়ার মাঝে হয়তোবা, অন্যরা ভাববে ভাবুক মানুষ, ভাবনায় সুখ খুঁজে নেন জীবণের চৌহদ্দিতে কোন চমক নেই, কোন অর্জন নেই, তারপরেও ভাবে সুখী এখানেই জীবণের বৈচিএ্য একেক মানুষ একেক ভাবে দেখে
সুখ কি প্রজাপতি, প্রেয়সীর মিস্টি হাসি, ভোর রাতের মিস্টি স্বপ্ন, চায়ের কাপে উষ্ণ চুমুক, কর্মব্যস্ত দিনের শেষে রবীন্দ্রসংগীত, রিমঝিম বৃস্টির শব্দ, তপ্ত সন্ধ্যায় দক্ষিণা বাতাসের আলতো ছোঁয়া, মুঠো ফোনের সেই রিংটোনটি, জোৎস্না রাতে রূপালী আলোর বন্যা, কিন্নরীর সুর, অপেক্ষার অকস্মাৎ অবসান, নিস্পলক দৃস্টি, অপ্রশস্ত বারান্দায় পদচারিতার পদধ্বনি? আসলে কি জানেন, সুখ আপনার খুব কাছাকাছি বসবাস করে, খুঁজে নিতে হয় তাকে, আপন মনের মাধুরী মিশিয়ে তাকে লালন করতে হয় সুখ সোনার হরিণ নয় আমি সুখী দু:খ আমায় ছোঁয় না এরকম প্রত্যয়ী ভাবনায় জীবণ সাজাতে পারলেই সুখ নামক পাখিটি বাস করবে প্রতিটি জীবণে আমার আজকের সকালের নিস্তরঙ্গতায় তাই সুখের শান্তিধারা বইছে আসুন, আমরা সুখ পাখিটাকে মনের খাঁচায় বন্দী করে তাকে লালন করি আমৃতু্য
"...আজি বহিতেছে
প্রাণে মোর শান্তিধারা
মনে হইতেছে
সুখ অতি সহজ সরল, কাননের
প্রস্ফুট ফুলের মতো, শিশু-আননের
হাসির মতন, পরিব্যাপ্ত, বিকশিত,
উন্মুখ অধরে ধরি চুম্বন-অমৃত
চেয়ে আছে সকলের পানে বাক্যহীন
শৈশববিশ্বাসে চিররাএি চিরদিন

বিশ্ববীণা হতে উঠি গানের মতন
রেখেছে নিমগ্ন করি নিথর গগন

সে সংগীত কী ছন্দে গাঁথিব! কি করিয়া
শুনাইব, কী সহজ ভাষায় ধরিয়া
দিব তারে উপহার ভালোবাসি যারে,
রেখে দিব ফুটাইয়া কী হাসি-আকারে
নয়নে অধরে, কী প্রেমে জীবনে তারে
করিব বিকাশ! সহজ আনন্দখানি
কেমনে সহজে তারে তুলে ঘরে আনি
প্রফুল্ল সরস! কঠিন-আগ্রহ-ভরে
ধরি তারে প্রাণপণে-মুঠির ভিতরে
টুটি যায়! হেরি তারে তীব্রগতি ধাই_
অন্ধবেগে বহুদূরে লঙ্ঘি চলি যাই,
আর তার না পাই উদ্দেশ\
চারি দিকে
দেখে অজি পূর্ণপ্রাণে মুগ্ধ অনিমিখে
এই স্তব্ধ নীলাম্বর, স্থির শান্ত জল_
মনে হল, সুখ অতি সহজ সরল\

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  1. সুখ সম্পর্কে জ্ঞানিদের কিছু বানি ঃ- মানুষ যতটা সুখী হতে চায়, সে ততটাই হতে পারে। সুখের কোনো পরিসীমা নেই। ইচ্ছে করলেই সুখকে আমরা আকাশ অভিসারী করে তুলতে পারি । আব্রাহাম লিংকন                                              
  1. একটি সুখের সংসার ধ্বংস করার জন্য শয়তান যতগুলো অস্ত্র আবিস্কার করেছে তার মধ্যে মারাত্নক অস্ত্র স্ত্রীর ঘ্যনর ঘ্যানর

    ডেল ক্যার্নেগি      
  2.   
    আমি জ্ঞানী নই, কিন্তু ভাগ্যবান কাজেই আমি সর্বতোভাবে সুখী

    ডব্লিউ জি নেহাম
  3.      একজন সুখী মানুষ সাদা কাকের মতোই দুর্লভ

    জুভেনাল
  4.    বৃক্ষের সার্থকতা যেমন ফল ধারণে সেইরকম নৈতিক গুনাবলীর সার্থকতা শান্তি লাভে। চরম ও পরম শান্তি লাভের পথ হচ্ছে ক্রমাগত সৎ জীবনযাপন করা।

    আল ফারাবি
  5.    
    আমি সবসময় নিজেক সুখী ভাবি, কারণ আমি কখনো কারো কাছে কিছু প্রত্যাশা করি না, কারো কাছে কিছু প্রত্যাশা করাটা সবসময়ই দুঃখের কারণ হয়ে দাঁড়ায়

    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
  6.   লাজুক ধরনের মানুষ বেশীর ভাগ সময়ই মনের কথা বলতে পারেনা। মনের কথা হড়বড় করে বলতে পারে শুধু মাত্র পাগলরাই। পাগলরা মনে হয় সেই কারণেই সুখী।

    হুমায়ূন আহমেদ
  7. এরা সুখের লাগি চাহে প্রেম, প্রেম মেলে না, শুধু সুখ চলে যায়

    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
 quantummethodঃ- এর মতে সুখ

সুখ এই কথাটার আসল অর্থ কি? কাকে আমরা সুখ বলে ভাবি? কী সেটা?
রাতদিন আমরা বলে ফিরি, এ জীবনে সুখ পেলাম না, আমার কপালে সুখ নাই, জন্মের পর থেকে সুখের মুখ দেখলাম না, এমন আরও কত কি! কিন্তু আমরা কি জানি সুখ মানে কী বা কোথায় আছে সুখ?
সুখকে আমরা যে যার মতো করে সংজ্ঞায়িত করার চেষ্টা করি। কেউ ভাবি এটা পেলে সুখী হতাম, কেউ ভাবি ওটা পেলে সুখ পেতাম। একেকজনের ভাবনা একেক রকম।
একজন ব্যবসায়ী কী চায়? টাকা। সে ভাবে যদি এক কোটি টাকার কন্ট্রাক্ট পেতাম বা টেন্ডারটা যদি মিলে যেত, তবে আমার মতো সুখী আসলেই কেউ হতো না। যারা চাকরিজীবি তারা চায় বেতন বাড়ুক বা প্রমোশন হোক।
একজন গৃহিণীর চাওয়া পাওয়ার হিসেবটা আবার অন্যরকম। সে চায় শাড়ি গয়না, নিজের একটা সংসার। কেউ জয়েন্ট ফ্যামিলিতে থাকলে ভাবতে থাকে, কবে হবে নিজের একটা ছোট্ট সংসার। তা না হলে আমার সুখ নাই।
সন্তান চায় স্বাধীনতা। তারা ভাবে আর কতদিন বাবা মায়ের শাসনে থাকতে হবে।
অর্থাৎ আমরা যে যার মতো করে শুধু চেয়েই যাচ্ছি অবিরত। কেউ কেউ সেই চাওয়াগুলোকে হয়তো পাওয়াতেও রূপান্তরিত করতে পারছি। কিন্তু তারপর? তারপর কি হচ্ছে? আমরা কি আসলেই সুখী হতে পারছি?
আমি নিজে আজ পর্যন্ত সুখের কোনো ব্যাখ্যা পেলাম না। ছোটবেলায় পছন্দের জামাটা যতক্ষণ না পাচ্ছি দুঃখ নিয়ে ঘুরে বেড়াতাম। পেলেই মনটা আনন্দে মেতে উঠত। আবার পরীক্ষায় রেজাল্ট ভালো হলেও মনের কোণে একটা সুখ সুখ ভাব হতো। এটার নামই কি তাহলে সুখ?
একটু বুঝতে শেখবার পর থেকে সুখের সংসার গড়বার স্বপ্ন দেখেছি। স্বামী সংসার সন্তান এসবের মাঝে নিজেকে বিলিয়ে দেবার নাম কি তবে সুখ? একজন মেয়ে তার সমস্ত সাধ আহ্লাদ বিসর্জন দিয়ে সংসারের জন্যে সারাটা জীবন হাসি মুখে কাটিয়ে দেয়। কেউ কেউ হয়ত শাশুড়ি ননদের গঞ্জনা শুনে আবার স্বামীর গালমন্দ শুনেই পার করে সারাটা জীবন। হয়তো বা শুধুই বিছানার সঙ্গী হয়ে কাটিয়ে দেয় অধিকাংশ নারী।
তাদের যদি বলা হয়, কেন তোমরা সহ্য করছো?! মানুষের মত বাঁচো! তারা কি শুনবে? শুনবে না। উল্টো বলবে, তুমি কি আমার সুখের সংসারে আগুন লাগাতে চাও?
এই যে প্রতিবাদ না করা। মুখ বুজে সহ্য করা-এ কি শুধুই সুখের সংসার বাঁচাতে? !! নাকি সমাজের অপবাদের বোঝা যাতে বইতে না হয় সেজন্যে?!
ধর্মতো মেয়েদের বেঁধে রাখে নি? দিয়েছে স্বাধীনতা! কিন্ত তা কি আমরা আক্ষরিক অর্থে পাচ্ছি? এই সমাজ কি আমাদের সেই অধিকার দিয়েছে?!!
বাবার বাড়িতে মেয়ে হয়ে, স্বামীর সংসারে বউ হয়ে, আর সন্তানের মা হয়ে অনেকেই নিরানন্দ জীবনের বোঝা বয়ে বেড়াচ্ছে। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা তাদের যাই হোক না কেন। নিজের মেধার বিকাশের সুযোগ সে আর পাচ্ছে না। ফলে স্বামী যদি বলে আমার টাকায় খাচ্ছো-পরছো, যেভাবে বলব সেভাবেই চলতে হবে, সেটা মেনে নেয়া ছাড়া আর কিছু কি করবার আছে? আর বাবার বাড়ি সে-তো বিয়ের পর পরের বাড়ি হয়ে যায়।
মেয়েরা কখনও স্বামীর মন রক্ষার্থে সংসার বাঁচাতে বাবার কাছে সহযোগিতা চায় আবার কখনও স্বামীর কাছে মাথা নত করে বাবার মান বাঁচাতে। অপমানিত লাঞ্ছিত জীবনটাকে কেউ যদি মুখ বুজে সহ্য করে যেতে পারে তবে সে ভূষিত হয় মহান বা আত্মত্যাগী মহিলা রুপে। কিন্ত কেউ যদি নিজের আত্মমর্যাদাবোধকে মুল্য দিয়ে অপমানিত জীবন মেনে নিতে না চায় তবে কি তাকে সমাজ ছেড়ে দেবে? “মুখরা” “কুলটা” অপবাদের বোঝা না দিয়েই?
এখন একটু অন্য প্রসঙ্গে আসি। ধরে নেই, সমাজ সংসার ধর্ম বাদ দিয়ে জঙ্গলকে কেউ বেছে নিল সুখের নিবাস হিসেবে। যেখানে কোনো দায় নেই। তারপরও কি কোনো মানুষ হলফ করে বলতে পারবে, সে ১০০% সুখি? তা যদি নাই হয় তবে সুখটা কথায়????
বাবা মা ভাবে সন্তানকে কষ্ট করে মানুষ করলে বুড়ো বয়সে সুখ মিলবে। কিন্ত সেই সন্তান যখন বড় হয়ে মা-বাবাকে ফেলে নিজের সুখের সংসার গড়তে ব্যস্ত হয়ে ওঠে তখন?
আমার অনেক স্বপ্নে দেখা সুখের সংসার মাত্র তিন মাসের মাথায় ভেঙে গেল সে কি কেবল আমার দোষে? ছোট ছিলাম তাই বুঝতে পারি নি, অথচ সব দায়ভার আমাকেই নিতে হয়েছিল। কারণ আমি মেয়ে হয়ে সুখের স্বপ্ন দেখেছিলাম।
এরপর থেকে ছেলেদের আমি সহ্য করতে পারতাম না। ওদের কষ্টের মাঝেই আমি সুখ পেতাম। কিন্ত সেটা কি সত্যিকার অর্থে সুখ ছিল?
দ্বিতীয়বার আমার আবার বিয়ে হলো। ভাবলাম হয়ত এবার আমি সুখের সংসার গড়তে পারব। প্রথমবারে ছোট ছিলাম, তাই না বুঝে সব অন্যায় অত্যাচার সহ্য করেছি। এবার সংসার করব, কিন্ত অন্যায় সহ্য করবো না মুখ বুজে। কিন্তু সুখপাখি কি ধরা দিয়েছিল আমার কাছে? সবাই বললো, বাচ্চা হলে সব ঠিক হয়ে যাবে। কিন্ত বাচ্চা কি সংসার টিকাতে পেরেছিল!
উল্টো সেকেন্ডহ্যান্ড উপাধি নিয়ে সংসার ছাড়তে হলো। যদি সব মেনে নিতাম তাহলে কি সুখী হতাম? প্রথমবারে তো মেনে নিয়েছিলাম সবই। তাহলে কেন সংসার বাঁচাতে পারলাম না? এরপর যখন সংসার ছেড়ে দিলাম, তখনো কেন সুখ পেলাম না। বিয়ে ভাঙা এক অল্পবয়েসী মেয়ের দিকে কী চোখে তাকিয়েছে আমাদের এই সমাজ? এমনকি পরিবার আত্মীয় স্বজন বন্ধু বান্ধব? এরা কি কেউ সহজভাবে নিতে পেরেছে ব্যাপারটা?
আর এখন এই যে আমি অজানা অচেনা এক দেশে বাস করছি। এখন কিভাবে দেখছে এখানকার বাঙালি সমাজ আমাকে? সংসার ছেড়েছি, দুই দুই বার বিয়ে ভেঙেছে, তার জন্যে যেন সবার শ্যেনদৃষ্টির সামনে আমি। যদি নিজেকে ভাসিয়ে দেই, তাহলে ওরা সবাই খুশি হয়ে বাহবা দেবে সামনে আর পেছনে অপবাদ দেবে কুলটা। কিন্ত যদি না দেই? তাহলেও কি ওরা ছেড়ে দেবে? আমার উপর পড়বে পুরুষের ইগো থেকে সৃষ্ট অসংখ্য সব অপবাদ।
এই যদি পরিস্থিতি হয় তাহলে সুখের পথে সামাজিক মূল্যবোধই কি অন্তরায়? নাকি গোটা পৃথিবীর পুরুষমানুষরাই এর জন্যে দায়ী? নাকি মানুষ জানেই না আসলে সুখ কি জিনিস।
আমি ধার্মিক, খুবই ধার্মিক। আমি প্রকৃতি ভালবাসি। ভালবাসি গাছপালা পশুপাখি। আমি বিশ্বাস করি আমি এক সফরে আছি। এই সফর শেষে যেতে হবে আরেক অনন্ত সফরে। হয়তো সেই জীবনে গিয়ে আমি আমার সুখের সন্ধান পাবো।
আর এই জীবনে! এই জীবনে আমি অনেক সুখী। কারণ আমি স্রষ্টার কাছে নিজেকে সমর্পিত করেছি। মানুষের কল্যাণের মাঝেই আমি আমার সুখকে খুঁজে নিয়েছি।
একটা জিনিস আমি বুঝেছি, সেটা হলো চাওয়ার মাঝে কিন্তু কোনো সুখ নেই। সুখ আছে দেয়ার মাঝে। তাই আমি শুধুই দিতেই চাই। মন-প্রাণ উজাড় করে শুধুই দিতে চাই। ভালবাসা দিতে চাই অসহায় বঞ্চিতের মাঝে, প্রকৃতির মাঝে বিলিয়ে দিতে চাই আমার সমস্ত সত্ত্বা। সৃষ্টির লালনে বিলাতে চাই আমার ছোট এই জীবন।
   
            

নিচের লেখাটি 

Rabindranath Tagore ব্লগ থেকে নেওয়া...




যাহারা রীতিমতো বাঁচিতে চাহে, মুমূর্ষুভাবে কালযাপন করিতে চাহে না, তাহারা দুঃখ দিয়াও সুখ কেনে। হ্যফ্‌ডিং বলেন ভালোবাসা ইহার একটি দৃষ্টান্তস্থল। ভালোবাসাকে সুখ বলিবে না দুঃখ বলিবে? গ্যেটে তাঁহার কোনো নাটকের নায়িকাকে বলাইয়াছেন যে, ভালোবাসায়

          কভু স্বর্গে তোলে, কভু হানে মৃত্যুবাণ।

অতএব সহজেই মনে হইতে পারে এ ল্যাঠায় আবশ্যক কী? কিন্তু এখনও গানটা শেষ হয় নাই। সুখ দুঃখ সমস্ত হিসাব করিয়া শেষ কথাটা এইরূপ বলা হইয়াছে--

        সেই শুধু সুখী, ভালোবাসে যার প্রাণ।

ইহার মর্ম কথাটা এই যে, ভালোবাসায় হৃদয় মন যে একটা গতি প্রাপ্ত হয় তাহাতেই এমন একটা গভীর এবং উদার পরিতৃপ্তি আছে যে, প্রবল বেগে সুখ-দুঃখের মধ্যে আন্দোলিত হইয়াও মোটের উপর সুখের ভাবই থাকিয়া যায়, এমন-কি, এই আন্দোলনে সুখ বল প্রাপ্ত হয়।

এই সুখের সহিত দুইটি মানসিক কারণ লিপ্ত আছে। প্রথমত, দুঃখ যে পর্যন্ত একটা বিশেষ সীমা না লঙ্ঘন করে সে পর্যন্ত সুখের পশ্চাতে থাকিয়া সুখকে প্রস্ফুটিত করিয়া তোলে। এই কারণে, যাহারা সুখের গাঢ়তাকে প্রার্থনীয় জ্ঞান করে তাহারা অবিমিশ্র সামান্য সুখের অপেক্ষা দুঃখমিশ্রিত গভীর সুখের জন্য অধিকতর সচেষ্ট। দ্বিতীয়ত, দুঃখেরই একটা বিশেষ আকর্ষণ আছে। কারণ, দুঃখের দ্বারা হৃদয়ের মধ্যে যে একটা প্রবল বেগ, সমস্ত প্রকৃতির একটা একাগ্র পরিচালনা উপস্থিত হয় তাহাতেই একটা বিশেষ পরিতৃপ্তি আছে। ক্ষমতার চালনামাত্রই নিতান্ত অপরিমিত না হইলে একটা আনন্দ দান করে। বিখ্যাত দার্শনিক ওগুস্ত্‌ কোঁৎ তাঁহার প্রণয়িনীর মৃত্যুর পরে এই বলিয়া শোক প্রকাশ করিয়াছিলেন, "আমি মরিবার পূর্বে মনুষ্যপ্রকৃতির সর্বোচ্চ মনোভাব যে অনুভব করিতে পরিয়াছি সে কেবল তোমরাই প্রসাদে। এই মনোভাবের সঙ্গে সঙ্গে যত কিছু কঠিনতম যন্ত্রণা ভোগ করিয়াছি সেইসঙ্গে এ কথা সর্বদাই মনে উদয় হইয়াছে যে, হৃদয়কে পরিপূর্ণ করাই সুখের একমাত্র উপায়, তা সে যদি দুঃখ দিয়া তীব্রতম যন্ত্রণা দিয়া হয় সেও স্বীকার।'-- আমরা যদি দুঃখ হইতে সম্পূর্ণ অব্যাহতি পাইতে চাই তবে কিছুতেই ভালোবাসিতে পারি না। কিন্তু ভালোবাসাই যদি সর্বোচ্চ সুখ হয় তবে দুঃখের ভয়ে কে তাহাকে ত্যাগ করিবে! কর্মানুষ্ঠানের প্রবলতা ও জীবনের পরিপূর্ণতার সঙ্গে সঙ্গে বিস্তর ব্যয়, মুহুর্মুহু ঘাত-প্রতিঘাত এবং অবিশ্রাম আন্দোলন আছেই। কিন্তু জীবনের সর্বোচ্চ সম্পদগুলি বিনামূল্যে কে প্রত্যাশা করে!

মনস্তত্ত্ববিৎ পণ্ডিতের কথা উপরে প্রকাশিত হইল এখন কবি চণ্ডীদাসের দুটি কথা উদ্ধৃত করিয়া শেষ করি। রাধিকা যখন অসহ্য বেদনায় বলিতেছেন--

          "বিধি যদি শুনিত, মরণ হইত,
          ঘুচিত সকল দুখ'


তখন--

          চণ্ডীদাস কয় "এমতি হইলে
          পিরীতির কিবা সুখ!'


দুঃখই যদি গেল তবে সুখ কিসের!

   

 
সুখ সুখ করি আমি সুখ কি আমার রবে চিরদিন

কালে কালে সুখ হবে কালেতে বিলীন

  সুখ অর্জনের প্রচেষ্টা সবাই করে। মানুষ জীবনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দুঃখ মুক্তির আন্দোলনে ব্যস্ত থাকে। দুঃখজনক পরিস্থিতির সম্মুখীন হলে মানুষ দুঃখের কারণ অনুসন্ধান করে এবং দুঃখ অপনোদনের প্রয়াস করে। মানুষ দুঃখ কিছুতেই চায় না, চায় সুখ, সুখের অনুভূতি। প্রতিদিন পাগলের মতো আমরা সুখের পশ্চাতে ধাবিত হই। সুখের নাগাল পাওয়ার পূর্বেই দেখি সুখ কালেতে বিলীন হয়েছে। সুখ ধরে রাখা যায় না। আঙ্গুলের ফাঁক দিয়ে যেমন পানি পড়ে যায় তেমনি হারিয়ে যায় সুখ। তবুও আমরা উন্মত্তভাবে সুখ সুখ করি। কত মোহান্ধ ও নির্বোধ আমরা!
ক্ষুধার্ত মানুষ সুখ চায় না। ক্ষুধার্ত মানুষ চায় খাদ্যবস্তু। খাদ্য গ্রহণ করার সময় মানুষ যে তৃপ্তি পায় তাকে সুখ বলা চলে। অর্থাৎ সুখ হলো কাম্য বস্তু ভোগের অনুভূতি। অর্থাৎ বাস্তবে মানুষ কামনা করে বস্তু। কারণ কোনরূপ বিচার বিবেচনা ব্যতীত যে কর্ম অধিকতর সুখ প্রদান করে তা-ই যদি মানুষ করতে থাকে তবে পরিণামে মানুষ দুঃখই প্রাপ্ত হবে। যেমন, ভোজনে যে সুখ আমরা পাই তা যদি বিচার বিবেচনা না করে বাড়াতে থাকি তবে অচিরেই তা অসুখ সৃষ্টি করবে। তাই সুখের ঊর্ধ্বে বিচার বিবেচনার স্থান।
সুখ বা দুঃখ আমরা অনুভব করি। ইন্দ্রিয় অনুভূতি তীব্র তাই ইন্দ্রিয় সুখও তীব্র। কবিতা পাঠের চেয়ে সুস্বাদু ভোজন তীব্র ইন্দ্রিয় সুখানুভূতি দেয়। আমরা সুখ সুখ করি কিন্তু সুখই যদি লক্ষ্য হয় তবে তুলনামূলকভাবে যে সুখ তীব্র তা-ই কাম্য হওয়া উচিত। কিন্তু বাস্তবে মানুষ যদি ইন্দ্রিয় সুখকেই সর্বদা প্রাধান্য দেয় তবে তা অতি দুঃখের কারণ হবে। অন্যদিকে, ইন্দ্রিয়ের পরিতৃপ্তিতে যে সুখ হয় তার প্রবলতা ক্রমশঃ বিলুপ্ত হয়। যে জীবনে কোনদিন আপেল খায় নাই সে প্রথম আপেলটির জন্য যে মূল্য দিতে প্রস্তুত দ্বিতীয় আপেলের জন্য তার চেয়ে কম মূল্য দেবে। অর্থনীতিতে একে বলা হয় ক্রমহ্রাসমান উপযোগ বিধি। বারবার অনুশীলনের মাধ্যমে ইন্দ্রিয় সুখে অভ্যস্থ হয়ে গেলে তা শিথিল হয়ে যায়।
দৈনন্দিন জীবনে এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতেই হয় যখন একা কোন সুখ ভোগ করলে অনেকের দুঃখ হয়। সে ক্ষেত্রে কেবল নিজের সুখ ভোগ করলে পরিণামে দুঃখের অনুভূতি হয়। আবার অনেক ক্ষেত্রে এমনও হয় যে এক ব্যক্তিকে কষ্ট দিলে অনেক লোকের সুখের অনুভূতি সৃষ্টি হয়। এক্ষেত্রে সুখই যদি লক্ষ্য হয় তাহলে বিত্তবানের বিত্ত বলপূর্বক অধিগ্রহণ করে গরীবদের মধ্যে বিতরণ করা ন্যায় বিবেচিত হবে। কিন্তু বাস্তবে এমনটি করা অপরাধ। এসব ত্রুটির কারণে সুখ জীবনের লক্ষ্য হওয়ার যোগ্যতা রাখে না। সুখ-দুঃখ, ভালো লাগা-খারাপ লাগা এসব আবেগাত্মক বিষয়কে ধর্ম অধর্মের মানদণ্ড করা যায় না।
ধর্মীয় বিবেচনায় সুখের অনুভূতিকে অধিক গুরুত্ব দেয়া যায় না। কারণ সুখের পরিমাণগত এবং গুণগত পার্থক্য আছে। কবিতা পাঠের সুখ আর ভোজনের সুখ এক নয়। জ্ঞানীর সুখ আর মূর্খের সুখ এক নয়। কখন কোন্‌ বস্তু কাকে কতটা সুখ দেবে তা পরিমাপ করা যায় না। চিন্তার বিকৃতিও মানুষের মধ্যে সুখ উৎপন্ন করতে পারে। অন্যকে কষ্ট দিয়ে, অন্যের উপর অত্যাচার করেও অনেকে সুখ পায়। হিংসা, ঈর্ষা, পরনিন্দাও মানুষকে সুখ দেয়। এ জাতীয় সুখ ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে অকল্যাণকর। কোন বস্তুর স্বাদ যেমন নির্ণয় করে না যে বস্তুটি স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য ভালো ঠিক তেমনি সুখের অনুভূতিও প্রমাণ করে না যে কাজটি বিচার-বিবেচনায় ভালো।
এ জগতে সুখী মানুষের সংখ্যা খুব কম। প্রত্যেকেরই কোন না কোন দুঃখ রয়েছে। কোন ব্যক্তি হয়তো খুব বিত্তবান, প্রচুর সুস্বাদু খাদ্য তার কাছে মজুদ আছে কিন্তু সে খেতে পারে না, ডায়াবেটিস কিংবা পরিপাক যন্ত্রের ত্রুটির কারণে। অন্যজন সম্পূর্ণ সুস্থ, পরিপাক যন্ত্রও উত্তম কার্য করে কিন্তু তার হয়তো মুখে দেয়ার মতো খাবার জোটে না। কারো অনেক সন্তান। সন্তানদের কি খাওয়াবে, কি পড়াবে, এ নিয়ে তার দুঃখের শেষ নেই। অন্যজনের অনেক বিত্ত কিন্তু নিঃসন্তান।
সুখ-দুঃখ একই মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ। দুঃখ ব্যতীত সুখ এবং সুখ ব্যতীত দুঃখকে গ্রহণ করা যায় না। দুঃখ চাওয়া যেমন মর্যাদার নয় তেমনি সুখ চাওয়াতে কোন মর্যাদা নেই। যাদের সম্যক বিচারবুদ্ধি আছে তারা সুখের পশ্চাতে যেমন ছুটবে না তেমনি ছুটবে না দুঃখের পশ্চাতেও। যে সত্যকে নিয়ে আছে সে তো কেবল সত্যকে নিয়েই থাকবে। সুখ কিংবা দুঃখ যে কোন পরিস্থিতিতে সে সাম্যে স্থিত, পরিতৃপ্ত শুধু এই কারণেই যে সে সত্যের সঙ্গে আছে। যে সত্যের সঙ্গে আছে, সত্যও যার সঙ্গে আছে তার চিন্তাগ্রস্ত হওয়ার কোন কারণই নেই। তাই সুখ বা দুঃখ নয়, সত্যকে নিয়ে থাকাই হলো মানুষের জীবনে মূল কাজ।
যে মানুষ সত্য নিয়ে কাজ করে তার মধ্যে স্থূল সুখ প্রাপ্তির তাগিদ থাকে না, থাকে আনন্দ সমপ্রাপ্তির এষণা। সুখ ও আনন্দ এক নয়। কুকুর হাড় চিবোতে থাকে, তাতেই তার সুখ, কিন্তু মানুষ হাড় চিবোবার আগে ভাববে, চিবোনোটা উচিত কিনা; সে ভেবে দেখে ওটা তার ক্ষুধা নিবারণ করবে কি-না। মানুষ বিচার করে কাজ করবে, কারণ মানুষের লক্ষ্য আনন্দ প্রাপ্তি, সুখ প্রাপ্তি নয়। মানুষ যদি সুখের পেছনে দৌড়োতে থাকে তাহলে ধীরে ধীরে সে পশুর দশা প্রাপ্ত হবে। পশুর জীবন নিছক ইন্দ্রিয় সুখ ভোগের জন্য আর মানুষের জীবন আধ্যাত্মিক আনন্দানুভূতির জন্য।
সুখ একটি অনুভূতি।  অনুভূতি চেতনার একটি অবস্থা মাত্র। চেতনার রূপান্তর মানুষের আয়ত্বে। ইন্দ্রিয় সুখের ক্ষেত্রে সামঞ্জস্যই শ্রেয়। বিলোপে ও সংযমে অনেক প্রভেদ। ইন্দ্রিয়ের বিলোপ ধর্ম নয়। ইন্দ্রিয় ও ইন্দ্রের সামঞ্জস্যই ধর্ম।
             

সুখ তুমি কি, বড় জানতে ইচ্ছে করে

 

 আপনি কি সুখি জানতে চান তাহলে ভিজিট করুনঃ-http://www.pursuit-of-happiness.org/happiness-quiz-happy2/

যারা নিজেকে সবসময় অসুখী মনে করেন তাদের অনেকেই মানসিক ডাক্তার ও মনস্তত্ত্ববিদের কাছে যান সাহায্যের জন্য৷ এই প্রসঙ্গে বিশেষজ্ঞদের প্রশ্ন করা হয়েছিল, কারা তাদের কাছে আসেন এবং তাদের সমস্যা কি?
ড্যুসেলডর্ফের মনস্তত্ত্ববিদ আন্ড্রেয়াস সোলইয়ানের কাছে এমন সব মানুষই আসেন যারা কোনো কিছু হারানোর যন্ত্রণা ভোগ করছেন৷ ‘‘যেমন কোনো সম্পর্ক ভেঙে গেলে,বিবাহ বিচ্ছেদ বা মৃত্যুর ঘটনা ঘটলে৷’’

সুখের প্রাচুর্যও অসুখী করে তোলে!
আশ্চর্যের ব্যাপার হলো সুখের প্রাচুর্যও অনেককে অসুখী করে তোলে৷ অল্প সময়ের মধ্যে উত্তেজনাপূর্ণ অনেক কিছু ঘটে গেলে মানসিক দিক দিয়ে অনেকে তাল সামলাতে পারে না৷ ভাল একটি কাজ পাওয়া, নতুন জীবনসঙ্গী পাওয়া, বিয়ে হওয়া, সুলভ মূল্যে একটি বাড়ি কেনার সুযোগ হওয়া – এসব স্বল্প সময়ের মধ্যে ঘটে গেলে বিহ্বল হয়ে যেতে পারে মানুষ, জেগে উঠতে পারে একটা মনমরাভাব৷
স্টেফান লেরমারের মতে, বলা যায়, অন্যের সঙ্গে তুলনা করা সুখকে ধ্বংস করতে পারে
ডয়চে ভেলের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে মনস্তাত্ত্বিক সোলইয়ান চিত্তাকর্ষক দুটি দৃষ্টান্তের কথা উল্লেখ করেন৷ দুই জনের দুই রকম ভাগ্যলিপি৷ একজন, বিনা দোষে মোটর সাইকেল দুর্ঘটনায় আহত পক্ষাঘাতে আক্রান্ত এক তরুণ৷ এই তরুণ হাসিমুখেই থেরাপিস্টের সঙ্গে কথাবার্তা বলেন৷ পরে সুখ সম্পর্কে তাঁর অনুভূতির কথা জিজ্ঞেস করা হয়৷ প্রশ্ন করা হয় একদম অসুখী থেকে বেশ সুখী, অর্থাৎ ০ থেকে ৬ পর্যন্ত সুখের স্কেলে নিজেকে তিনি কোথায় দেখেন৷ তাঁর উত্তর ছিল ৪.১৷ অন্যদিকে দ্বিতীয়জন লটারিতে পাঁচ লাখ ইউরো পেয়েও তাঁর উত্তর ছিল ৪.২৷ এতে বোঝা যায় একেক জনের সুখ ও দুঃখের অনুভূতি একেক রকম৷

কারণের ওপর মানুষের হাত নেই
মনোরোগ চিকিৎসক রোলান্ড উরবান মনে করেন, দুঃখের অনুভূতির ব্যাপারে একটা মিল দেখা যায় সব ক্ষেত্রে৷ আর সেটা হলো এর কারণটার ওপর মানুষের হাত নেই৷
মানুষ এটিকে প্রভাবিত করতে পারে না৷ যেমন অসুস্থতা, আপনজনের মৃত্যু কিংবা অন্য কোনো ক্ষতি হওয়া৷ তবে মানুষের ভেতরের একটা নিরাময় ক্ষমতা দুঃখবোধকে কমিয়ে দিতে পারে৷
ডয়চে ভেলের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে এই চিকিত্সক বলেন, ভুক্তভোগী যদি এমন কিছু খুঁজে পান যা তার জীবনে একটা পরিবর্তন আনতে পারে, তাহলে দুঃখবোধটাও অনেক কমে যায়৷ এই প্রসঙ্গে একটি উদাহরণ দেন তিনি৷ এক মহিলা তাঁর স্বামীর মৃত্যুর পর শোকাভিভূত হয়ে পড়েন৷ কিন্তু যখন থেকে তিনি পাশের বাড়ির এক অসহায় মহিলাকে সাহায্য করতে শুরু করেন, তখন থেকে নিজের দুঃখবোধও অনেকটা কমে যায়৷ সামাজিক কাজকর্ম, অন্যের প্রতি ভালবাসা, দায়িত্ববোধ এসব মনটাকে অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেয়৷ নিজের ক্ষতিকে ঘিরে থাকে না আর৷
মানসিক অসুস্থতা নয়
এই মনস্তাত্ত্বিক সতর্ক করে বলেন, দুঃখবোধকে মানসিক বৈকল্য বা অসুস্থতার সঙ্গে তুলনা করা উচিত নয়৷ তাঁর ভাষায়, ‘‘অসুখী বোধ করা একটি গভীর যন্ত্রণাদায়ক অনুভূতি৷ এটা কোনো অসুস্থতা নয়৷ অনেককে বলতে শোনা যায় তারা অসুখী এবং ডিপ্রেশনে ভুগছেন৷ শোক অনুভব করা সুস্থ মানুষের নিতান্তই স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া৷''
মিউনিখের সাইকোথেরাপিস্ট ও কোচ স্টেফান লেরমার মনে করেন শোক ও ‘অসুখ' মানুষের জীবনেরই অঙ্গ৷ আলো ও ছায়ার মতো৷ সুখ খুঁজতে হলে প্রয়োজন আত্মআবিষ্কার৷ ‘‘মানুষের নিজের চাহিদাটা জানতে হবে৷ জানতে হবে আমি কী চাই? আমার কাছে কী গুরুত্বপূর্ণ? ভোগ মানুষকে সুখী করতে পারে না৷ এটা বলা যায়, অন্যের সঙ্গে তুলনা করা সুখকে ধ্বংস করতে পারে৷ অন্যকে সুখী করতে পারলে নিজেও সুখ পাওয়া যায়৷''
মনস্তত্ত্ববিদ লেরমার বলেন, আগে অনেকে পরকালে সুখ পাওয়ার আশা করতেন৷ আজ এই মনোভাব পালটে গেছে৷
সুখ হলো বেতার তরঙ্গের মতো৷ এটা সবসময় থাকে৷ একে শুধু বের করে আনতে হয়৷ বলেন শ্টেফান লেরমার৷





  • প্রত্যেক মানুষ শান্তি খুঁজে, কিন্তু কোথায় সুখ-শান্তির পথ?!

     

সকলেই একই লক্ষ্য উদ্দেশ্যে ঐক্যমত


বিনিময়ে সৌভাগ্য
“কখনো তুমি এমন কিছু করবে যা তোমার কোন সৌভাগ্য বয়ে আনবেনা, তবে কোনকিছু করা ছাড়া সৌভাগ্য আসেনা। “
পৃথিবীর বুকে প্রত্যেক মানুষই সুখ-শান্তি পাওয়ার চেষ্টা করে। তাদের মতবাদ, জাতি, বর্ণ, উৎপত্তি, লক্ষ্য- উদ্দেশ্য যাই হোক না কেন সবাই একটি উদ্দেশ্যে একমত, তা হলো সুখ ও প্রশান্তি তালাশ করা।
যদি কোন লোককে জিজ্ঞেস করঃ তুমি এ কাজটি কেন কর? উহা কি কারণে করবে? সে বলবেঃ সুখ-শান্তির জন্য!! চাই তা শব্দগতভাবে বলুক বা অর্থগতভাবে বলুক। শান্তির প্রকৃত বা রূপক যেকোন অর্থেই হোক।

সুখ-শান্তি কি?

তাহলে সুখ-শান্তি কি? কিভাবে ইহা পাওয়া যায়?

সৌভাগ্য হল আমাদের সব চেয়ে নিকটে
“অনেক সময় আমরা সৌভাগ্য খুঁজি অথচ সৌভাগ্য আমাদের কাছেই থাকে, যেমন আমরা চোখের উপর চশমা রেখে অনেক সময় চশমা খুঁজি।”
সুখ হলো আনন্দ, প্রশান্তি, ঔদার্য ও প্রফুল্লতার ধারাবাহিক অনুভূতি। এ সুখানুভূতি তিনটি জিনিসের স্থায়ী অনুভূতির ফলে আসে, তা হলোঃ আত্মার উৎকৃষ্টতা, জীবনের উৎকৃষ্টতা ও শেষ পরিণতির উৎকৃষ্টতা।
মানুষ নিজেকে এ তিনটি বিষয়ের ব্যাপারে অনেক প্রশ্ন করে। সে যত বড় হয় তার প্রশ্নগুলো ততই বাড়তে থাকে। তার মনের মধ্যে ঘুর্ণায়মান এসব প্রশ্নের জবাব না পাওয়া পর্যন্ত সে সুখ-শান্তি লাভ করতে পারেনা। সেগুলো হলোঃ
-কে এ মহাবিশ্বের মালিক? কে ইহা পরিচালনা করেন?
-কে আমাকে সৃষ্টি করেছেন? কে আমার চারপাশের এ মহাবিশ্ব সৃষ্টি করেছেন?
-আমি কে? কোথা থেকে এসেছি? কেন আমাকে সৃষ্টি করা হয়েছে? আমি কোথায় যাব?

পথ বিভিন্ন তবে আল্লাহ এক
“কোথায় যাচ্ছ যদি না জান, তবে সব পথই তোমাকে সেখানে নিয়ে যাবে।”
যখনই মানুষের নিজের ও জীবনের ব্যাপারে সচেতনতা বৃদ্ধি পায় তখনই এ সব প্রশ্নগুলো তার চিন্তা ভাবনার মাঝে বার বার ঘুরতে থাকে। যতক্ষণ না এ সব প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর খুঁজে পাওয়া না যায় ততক্ষণ সে প্রশান্তি লাভ করতে পারেনা।



  


Copyright © 2014 nayan's foundation jessore All Right Reserved
^